April 19, 2026, 6:42 pm

ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যদের বিরুদ্ধে ১৩২টি ভুয়া প্রকল্পের নামে ২১ কোটি ২০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে

গাইবান্ধা প্রতিনিধিঃগাইবান্ধার পলাশবাড়ির কিশোরগাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যদের বিরুদ্ধে ১৩২টি ভুয়া প্রকল্পের নামে ২১ কোটি ২০ লাখ টাকা ও ১ লাখ ২৪ হাজার ৪৯৮ মে. টন গম আত্মসাতের অভিযোগে গাইবান্ধা স্পেশাল জজ আদালতে সোমবার একটি মামলা (১/২১ নং) দায়ের করা হয়েছে। আদালত রংপুর দুর্নীতি দমন বিভাগে ধারা ৪০৬/৪২০ এবং দুর্নীতি দমন আইনে ০৫ ধারা মতে তদন্ত পূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, গাইবান্ধা পলাশবাড়ি উপজেলার কিশোরগাড়ী ইউনিয়নের জাইতর গ্রামের জিয়াউল হক জুয়েল ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম রিন্টুসহ ১১ জন ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে এই দুর্নীতির মামলা দায়ের করেন। মামলার আসামি ইউপি সদস্যরা হলেন- মমতাজ আলী, মো. রেজাউল, মো. মতলুবর রহমান, রফিকুল ইসলাম, মোজাম্মেল হক, নওশা মিয়া, রঞ্জনা রাণী মহন্ত, অহেন্দ্র নাথ সরকার এবং সদস্যা এমিলি খাতুন ও মেনেকা।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, ওই ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যরা ২০১৫-২০১৬ অর্থ বছর থেকে ২০২০-২০২১ অর্থ বছর পর্যন্ত অতিদরিদ্র কর্মসূচীর আওতায় ১৮টি, কাবিখা/কাবিটার ৪টি, ইউনিয়নের জন্য ১% বাবদ ২টি, টিআর ১৪টি, শ্রমিকদের নামের তালিকায় ৭৫% নাম আসামিদের নাম অন্তর্ভুক্তকরণ মোট ৩৮টি প্রকল্পের ১ কোটি ১৮ লাখ টাকাসহ সর্বমোট ১৩২টি প্রকল্পের ২১ কোটি ২০ লাখ ৪৭ হাজার ৩৮০ টাকা এবং ১ লাখ ২৪ হাজার ৪৯৮ মে. টন গম আত্মসাৎ করা হয়। শুধু তাই নয়, উক্ত আসামিরা অতিদরিদ্র কর্মসূচীর আওতায় শ্রমিকদের নামের তালিকায় নিজস্ব লোকজনের নাম অন্তর্ভুক্ত করেও বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করেছেন।

এই বিভাগের আরও খবর


অ্যামোনিয়া সংকটের কারণে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) সারকারখানার উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কারখানার অ্যামোনিয়া মজুদ শেষ হয়ে গেলে কর্তৃপক্ষ সার উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয়। ডিএপিএফসিএল সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ মার্চ গ্যাস সংকটের কারণে চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (সিইউএফএল) এবং কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো)-তে ইউরিয়া সার ও অ্যামোনিয়া উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। অথচ ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এই দুই কারখানা থেকে অ্যামোনিয়া সংগ্রহ করে সার উৎপাদন চালিয়ে আসছিল। ফলে সিইউএফএল ও কাফকো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ডিএপিএফসিএলে অ্যামোনিয়া সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় মজুদ অ্যামোনিয়া ব্যবহার করে কিছুদিন উৎপাদন অব্যাহত রাখা হলেও শেষ পর্যন্ত শনিবার সন্ধ্যায় তা ফুরিয়ে যায় এবং উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করা হয়। দেশের কৃষি খাতে সুষম সার ব্যবহারের নিশ্চয়তা এবং নাইট্রোজেন ও ফসফরাসসমৃদ্ধ যৌগিক সারের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিসিআইসি নিয়ন্ত্রিত এই কারখানাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার রাঙ্গাদিয়ায় স্থাপিত কারখানাটিতে দৈনিক ৮০০ মেট্রিক টন উৎপাদনক্ষমতাসম্পন্ন দুটি ইউনিট (ডিএপি-১ ও ডিএপি-২) রয়েছে। ২০০৬ সাল থেকে কারখানাটি বাণিজ্যিক উৎপাদনে রয়েছে। ডিএপিএফসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঈনুল হক জানান, গত ৪ মার্চ থেকে অ্যামোনিয়া সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। মজুদ দিয়ে উৎপাদন চালানো হলেও এখন তা শেষ হয়ে গেছে। অ্যামোনিয়া সরবরাহ পুনরায় চালু না হওয়া পর্যন্ত কারখানার উৎপাদন বন্ধ থাকবে।

ফেসবুকে আমরা